আবদুল কাইউম এর কবিতাগুচ্ছ
আবদুল কাইউম এর কবিতাগুচ্ছ
কপাল কড়চা

কেউ কেউ সোনার কপাল ওপার
থেকেই লিখিয়ে নিয়ে আসে আর কেউ
কেউ নিজের কপাল নিজ প্রচেষ্টায় এপারে
এসে নিজের হাতেই তো লিখে ফেলে

আর ঐ দু'টিই যে না করে সে
কুটচালে অন্যের কপালে ঘষে নিজের
কপালকে চমকাতে চায়; তবে সে হয়ত জানে-
না যে চুল কামিয়ে কপাল বড় করলেও
প্রত্যেকের কপাল কিন্তু সহজে খুলে না

কেন না...

পতিত উদ্যান কখনো ফুলে ভরে না,
আর বাঁজা গাছে কখনো ফল ধরে না ৷


বাড়ীর খোঁজে

একদিন ভুল করে বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে এসে
এখন বংশানুক্রমিক বাস করছি পরবাসে

পিতামহ প্রায়ই বলতেন আমাদের পূর্বপুরুষ যেখানে
বাস করতেন সেখানে নাকি মিঠা পানির ফুয়ারা ছিল
ছিল সুবুজ শ্যামল ফুল ফলের মনোরম বাগিছা
ছিল অঢেল প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর সম্ভার
ছিল আমোদ প্রমোদের নানাবিদ উপকরণ
ছিল প্রশান্তিময় জীবন আর নির্বিগ্নে বেঁচে থাকা
ছিল ব্যস্থতাহীন আর উৎকন্ঠাহীন অফুরন্ত সময়
ছিল সুখ শান্তি আর অসুখ বিসুখ বিহীন জীবনযাপন

যেখানে খাদ্য নিয়ে কাড়াকাড়ি হানাহানি ছিল না
ছিল না অন্যকে ঠকিয়ে নিজের ঝোলা ভরার মতলব
ছিল না অন্যের উপর কর্তৃত্ব খাটানোর কৌশল
ছিল না রেশারেশি হিংসাত্বক মনোভাব কারো
ছিল না অতীত বর্তমান বা ভবিষ্যতের চিন্তা
তাই'তো সেই আদি বাড়ীর খুঁজে আজো হন্যে হয়ে দু'চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি প্রতিনিয়ত
কত কত উন্নত বাহন চড়ে চড়ে সীমাহীন গন্তব্য পারি দিচ্ছি যুগে যুগে; কিন্তু আজো কোন হদিস মেলেনি

হয়ত বারবার চেষ্টার ফলে একদিন পেয়ে যাব
কাঙ্খিত বাড়ীতে পৌছে যাবার সঠিক পথের দিশা
সেই আশায় ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখি জেগেও স্বপ্ন দেখি
স্বপ্নে পিতামহের মুখে এক চিলতে স্বর্গীয় হাসি দেখি ৷


মুলো এখনো মুলো-ই

আন্ধারপ্রাচীর শেকলপড়া বিদ্রোহীর পদাঘাতে
কেঁপে উঠলে চিৎকার করে উঠে রাত্তিরি; আর
সুপ্রভাতে সূর্য্যের ঝলক দেখে বিলীন হবার ভয়ে
ঝেকে বসা ঐ আঁধারের বিলাপ শুরু হয়ে যায়

এ প্রাচীন প্রাচীর বড়'ই শক্ত প্রাচীর,কভু ভাঙেনা,
তবে চুড়ি ভাঙার শব্দে লাওয়ারিশ কুকুরের লালায়
শব্দবোম ঝরে আর ড্রাই কেমিকেলের পচা দূর্গন্ধ'ই
জানান দিয়ে যায় কোন নর্দমায় জন্ম নেয়া গ্যাসপুঞ্জ

পক্ষান্তরে বিনয়ের মালা হাতে কবিকুল পৃথিবীর
এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ছুটে বেড়ায় আর কুটলী'রা
ট্রামকার্ড হাতে পালাক্রমে খেলে ঐ পুরনো খেলা

আজকাল ডোরাকাটা দাগ দেখে চেনার উপায়'ই
নাই কোন সে প্রাণী, কেননা এডিটিং-এর কল্যাণে
মিঁউ শব্দকেও হুংকার মনে হয়; লম্বা কেশর আর
তর্জন-গর্জনে বুঝা''ই যায় না কে সিংহ কে শেয়াল

তবে ডিনার শেষে যখন কেউ তৃপ্তির ঢেকুর তোলে
তখন অনুমান করতে না পারলেও ব্যাকডোর থেকে
ভেসে আসা আওয়াজ'ই মুলো'র জাত চিনিয়ে দেয়

বড়'ই আপসোস হয়; সভ্যতার উৎকর্ষতায় গাজর
ক্যারট হয়ে গেলেও মুলো এখনো কেন মুলো-ই রয়?

ভিলেজ পলিটিক্স

যারা বিশ্বকাপে খেলেন; ভুল করে কখনো
গ্রামের পিচ্ছিল মাঠে খেলতে যাবেন না

বিশ্বকাপের মাঠে বিছানো থাকে সবুজ ঘাসের
গালিচা তাই ইচ্ছে মতো বলকে লাতি দিয়ে শিল্পের
কারুকার্য প্রদর্শন করা যায়; কিন্তু গ্রামের এঁটোকাদা
মাখা পিচ্ছিল মাঠে কেবল তাঁরাই খেলা দেখাতে
পারে যারা আজীবন কাদা নিয়ে খেলে

একদিন জাতীয় দলকেও নাকানিচুবানী খাইয়ে
ছিল গ্রামের এঁটোকাদায় খেলে বেড়ে ওঠা লাল,
জুয়েল; তো ওদের সাথে খেলতে যাবেন না শেষে
ওরা কাদায় লেপ্টিয়ে আপনার মুখও কালা করবে

বুঝতে হবে পলিটিক্স যদি ট্রিক্সের মারপ্যাঁচ হয়
তবে ভিলেজপলিটিক্স হলো তারও বাপ!

বিষ খেয়ে বিষ হজম

না পেরে কিষাণ'রা যেন ভয়ংকর বিষের
ভয়ে বিষ খেয়ে বিষ হজম করে যাচ্ছে!
জানো? ফসলের ক্ষেতে মাঝরা পোকায়
আক্রমন করলে ফসলের অবস্থা খারাপ
হলে ক্রমান্বয়ে ব্যাঙ,সাপ ও নেউলাদের
আবির্ভাব হয় অতঃপর বীণহাতে সাপুড়ে
এসে হাজির হলে প্রকৃতি তাঁর পূর্বাবস্থায়
ফিরে যায়; অতএব ভয় নেই বন্ধুরা শোন
ধর্য্য ধরে অপেক্ষা করো; নিদান পেরুলে
আবার মাঠে সোনালী ফসল হেসে উঠবে ৷


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান