কাজল রশীদের পাঁচটি কবিতা
আমি অসীমকে লিখলাম লিপি
ঠিকানা নেই, তবু পৌঁছে গেল।
একটি বিন্দু ভাবল, সে একা,
রেখা এসে বলল,চলো।
ছায়া জিজ্ঞেস করে আলোকে
তুমি কোথায় জন্মাও?
আলো হাসে, কিন্তু উত্তর রাখে
নিজের ভেতরের ধ্বনিতে।
ঘড়ির কাঁটা থেমে যায় না,
তবু সে গল্প শোনায়—
প্রত্যেকটি মুহূর্তের মধ্যে
ছোট ছোট চিরন্তন মুহূর্ত।
বৃক্ষের পাতা পড়ে যায়,
ধুলো বেয়ে যায় নদীর দিকে।
এক.
অনন্তের নোটবই
আমি অসীমকে লিখলাম লিপি
ঠিকানা নেই, তবু পৌঁছে গেল।
সংখ্যারা সার বেঁধে দাঁড়ায়,
কে আগে, কে পরে
এই নিয়ে তাদের নীরব তর্ক।
কে আগে, কে পরে
এই নিয়ে তাদের নীরব তর্ক।
কারণ খোঁজে ফলাফল,
ফলাফল পালায় কারণ থেকে।
পাতার শেষে লেখা থাকে
সব সমাধানই অস্থায়ী।
ফলাফল পালায় কারণ থেকে।
পাতার শেষে লেখা থাকে
সব সমাধানই অস্থায়ী।
হারিয়ে যাওয়ার নেশাতে আজ অংকগুলো মাতে,
বাকিটা তোলা থাক না হয় অনন্তের খাতা-তে।
দুই.
প্রশ্নের জ্যামিতি
একটি বিন্দু ভাবল, সে একা,
রেখা এসে বলল,চলো।
সমান্তরাল স্বপ্ন দেখে মিলনের,
কিন্তু নিয়ম মানে দূরত্ব।
কিন্তু নিয়ম মানে দূরত্ব।
আমি কোণকে জিজ্ঞেস করলাম
তুমি কতটা সত্য?
সে বলল,দৃষ্টিভেদে বদলাই,
তবু প্রশ্নেই আমার অস্তিত্ব।
তুমি কতটা সত্য?
সে বলল,দৃষ্টিভেদে বদলাই,
তবু প্রশ্নেই আমার অস্তিত্ব।
বিন্দু আজ বৃত্ত হয়ে খোঁজে তার সীমানা,
মানেই জীবনের সব অচেনা ঠিকানা।
তিন.
অন্ধকারের মুদ্রা
ছায়া জিজ্ঞেস করে আলোকে
তুমি কোথায় জন্মাও?
আলো হাসে, কিন্তু উত্তর রাখে
নিজের ভেতরের ধ্বনিতে।
একা থাকলে অন্ধকারও ধীরে
গণিত শেখে,
প্রতিটি শূন্যের মাঝে থাকে
একটি সম্ভাবনার চিহ্ন।
গণিত শেখে,
প্রতিটি শূন্যের মাঝে থাকে
একটি সম্ভাবনার চিহ্ন।
হারানো সব হিসেবগুলো পূর্ণতা আজ পায়,
মুদ্রার ওপিঠ অন্ধকারের গল্প বলে যায়।
চার.
সময়ের আয়না
ঘড়ির কাঁটা থেমে যায় না,
তবু সে গল্প শোনায়—
প্রত্যেকটি মুহূর্তের মধ্যে
ছোট ছোট চিরন্তন মুহূর্ত।
আমরা শোনার চেষ্টা করি,
সময়ের খোঁজে,
কিন্তু আয়নায় শুধু থাকে
আমাদের প্রশ্নের প্রতিবিম্ব।
সময়ের খোঁজে,
কিন্তু আয়নায় শুধু থাকে
আমাদের প্রশ্নের প্রতিবিম্ব।
হারানো পল গুণতে গিয়ে কাটে অলস বেলা,
সময় হলো মিছে এক লুকোচুরি খেলা।
পাঁচ.
এন্ট্রপির লিপি
বৃক্ষের পাতা পড়ে যায়,
ধুলো বেয়ে যায় নদীর দিকে।
প্রকৃতির হাসি নীরব,
কিন্তু চোখ খুললেই দেখা যায়
প্রতিটি বিশৃঙ্খল বিন্দু
একটি সম্ভাবনার গোপন বার্তা বহন করে।
কিন্তু চোখ খুললেই দেখা যায়
প্রতিটি বিশৃঙ্খল বিন্দু
একটি সম্ভাবনার গোপন বার্তা বহন করে।
ছড়িয়ে পড়া অগোছালো সব পথের প্রান্তে,
নতুন সৃষ্টি জেগে ওঠে কেউ পারে না জানতে।
