পাঠ
কোনো পাঠ নেই!
পাটাতন পেয়ে নাচে,
কোন আগুনের আঁচে?
ইতিহাসের পাঠ নেই!
রাজনীতির পাঠ নেই!
সংস্কৃতির পাঠ নেই!
পাঠ আছে শুধু
মধু কীভাবে খাওয়া যায়!
প্রমোদতরীতে ওঠা যায়!
বাউরী বাতাসে-
এইসব পাতারা,
ঝরে যাওয়ার সময়েও নাচে!
বাঁচে কতক্ষণ?
কোনো পাঠ না নিয়েও
কোন ঘাট পার হতে চায়?
অবলম্বন
অবলীলায় কার অবলম্বন হচ্ছো?
নির্দ্বিধায় কার বাহন হচ্ছো?
কাকে ঘাড়ে তুলছো তুমি?
ঘাড়ে উঠে ঘাট পার হওয়ার পর,
তোমার ঘাড় তো মটকাতে পারে!
ও তো কাকপক্ষধারী!
কখন যে ঝুঁটি খুলে ক্যাপ পরে,
কাক-সকালে কার উঠানে গিয়ে
নাচতে থাকবে-টেরই পাবে না!
বাঁকাতেড়া লোক সে
বাঁকাপথে হাঁটবে,
সোজাপথে হাঁটেনি কখনো!
তাকে ঘাড়ে তুললে শুধু
ঘাড় মটকাবে না!
ঘাড় মটকানোর পর--
আত্মকন্যার আত্মকাহিনিও
তছনছ করবে!
কাঞ্চনব্রীজে পৌঁছানোর পর,
কাঞ্চনজঙ্ঘায় উঠতে চাইবে সে!
তাকে ঘাড়ে তুলছো কেন?
আত্ম-অপকার করে
কার উপকার করো?
হাঁয়ের সাথে জিহ্বা
গিলতে চাইলেই
গিলছি!
কী-না গিলছি!
হাঁ করছি যখন তখন
নিজের হাঁয়েরও--
নিয়ন্ত্রণ নেই,
নিজেরও কাছে!
পাছে এসে পাছের লোক
কী বলছে?
তাও শুনছি না!
অন্যের কথা না শুনি,
নিজের কথাও শুনছি না!
বিবেক-বুদ্ধি লুপ্ত হলো,
হাঁয়ের সাথে জিহ্বা বাড়াই
পা ফেলছি কোন লোভে?
ফুঁ
ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে ফেলছে
আমাদের জ্বলে ওঠা বাতি!
রাতারাতি কারা?
বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে দিয়ে
আমাদের সরিয়ে দিচ্ছে,
আমাদেরই জায়গা-জমিন
ও বাগান থেকে!
ও কোন্ দারোয়ান?
ও কোন্ গাড়োয়ান?
ও কোন্ কোচোয়ান?
শুধু ফাজলামো নয়!
ময়লা জামা কচলিয়ে পরিষ্কার করার
কোনো মুরোদ নেই,
আমাদের নিয়ে কচলাকচলি!
আমাদের করের টাকায়
তোমাদের প্রবৃদ্ধি!
তা ভুলে গিয়ে পাইথানে পাইথানে
ছড়াচ্ছো পিঁপড়ের উপদ্রব!
ঘুমানো যাচ্ছে না!
তোমরা কী পেয়েছো?
বাঁশি বাজানোর ক্ষমতা পেয়ে
জাঙ্গিয়া না পরে জঙ্গলে নিতে
এতটা ন্যালাখেপা কেন?
কুমন্ত্রণা
কুমন্ত্রণা দিয়ে আর যন্ত্রণা দিয়েন না!
থামেন! অনেক হয়েছে!
সয়েছে অনেক কষ্ট! অভাগা মানুষ!
আর পতুলের মতো
নাচাবেন না!
হ্যাঁ করে থেকেছে বহুদিন!
মুখে কিছুই পড়েনি!
দিয়েছেন কিছু?
নিয়েছেন নিজেরা কতকিছু!
পিছু পিছু অসহায় মানুষেরা,
ঘুরেছে! দিয়েছে সম্মতি ও
সমর্থন! খেয়েছে বারবার
শুধু ধোঁকা!
বোকা বনে চলে গেছে,
শেষমেশ বনবাসে!
আমি অপেক্ষায় আছি
বাঘ হয়ে কবে তারা আসে?
