বসন্তের পাঁচটি সনেট: হাফিজুর রহমান
বসন্তের পাঁচটি সনেট: হাফিজুর রহমান

 কবি : হাফিজুর রহমান

অসম্পূর্ণ ছবিটি

 

 

ছবিটি তোমার খুব প্রিয় ছিল, জানি

 

জলরঙে আঁকা নদীতীরে মেঘদল

 

চিত্রকর নই কোন, একান্তে কেবল

 

তুলির আঁচড়ে আঁকি দ্যাখা-স্বপ্নখানি

 

 

বলেছিলে, দারুণ এঁকেছ মেঘগুলি

 

তোমার স্বগ্নের রঙ আমাকে কি দেবে ?

 

বুকের ভিতরে টের পাই কথা, নেবে !

 

মুহূর্তেই কতো স্বপ্ন করে কোলাকুলি !

 

 

মনে হলো, স্বপ্ন-জুড়ে তোমারি আবাস

 

তুমিহীন সেই ছবি কখনো মানায় !

 

না হয় নতুন রঙে আঁকি পুনরায়

 

নববধূ সর্বাঙ্গে পরুক বেশবাস !

 

 

সেই থেকে ছবিটিকে এঁকে আর মুছে

 

রঙ্গিন হতাশা-জলে কবিও ডুবেছে !

 

 


বসন্ত-বাতাসে

 

 

আকাশে-বাতাসে বহে বসন্ত-বাতাস

 

হৃদয়ে পেখম তোলে বিমুগ্ধ ময়ূর

 

মেঘের বদলে খোঁজে সুখ-সমুদ্দুর

 

বসন্ত বাতাস ওড়ে বসন্ত-বাতাস !

 

 

প্রভাতের আলো বলে, দ্যাখো সর্বজন

 

আকাশের নীলে ফোটে আনন্দ-কুসুম

 

বৃক্ষরাজি নদীতীর রজনী নির্ঘুম,

 

উতল হাওয়াজুড়ে কাঁপে মুগ্ধক্ষণ  !

 

 

দিন যত আলোময়, রাত্রি ততোধিক

 

দৃষ্টি যার স্বচ্ছজল, বোধের অতল

 

অন্ধজন তদপেক্ষা বোঝে সমুজ্জ্বল,

 

যেজন পায়না টের ধিক তারে ধিক

 

 

বসন্ত-বাতাস এলে বসন্ত বাতাস

 

শুভ্র-জ্যোৎস্নালোক বহে বারোমাস !

 


বসন্তের মেঘ

 

 

মেঘের গভীরে থাকে মুগ্ধ জলকণা

 

বিন্দু বিন্দু স্বচ্ছতার অমৃত উচ্ছাস,

 

দ্যাখে যতো পৃথিবীর চাতক-উদাস

 

খুঁজে ফেরে একফোঁটা অমৃতের দানা

 

 

জগৎ-আনন্দধামে একখন্ড মেঘ

 

আকাশের বুকে ফোটা মৌন মুখভার

 

মাটির মমতা-বুকে ঢালে উপহার

 

সুকোমল বৃষ্টিজলে ঝরায় আবেগ

 

 

সে-ই বুঝি ভিন্ন এক রূপ কবিতার

 

শরীরে মননে খুব ঝকঝকে আলো,

 

ভালোবাসি মেঘভার, বাসি তাই ভালো

 

অপরূপা পৃথিবীর সৃজনী আন্ধার

 

 

জলে যদি জ্বলে আলো,দাও জল দাও

 

অমৃত-কুম্বের জলে জগৎ ভাসাও

 

 


 

ফুল-সমাচার

 

 

ফুল-বাগিচায় কাটলো বিকেল-টুকু

 

হাস্যমুখর ফুলকুঁড়িরা জেগে দ্যাখে,

 

যাচ্ছি ছুঁয়ে ফুলকলিদের শাখে-শাখে

 

মুগ্ধ-চোখে জন্মক্ষণের মুহূর্তটুকু !

 

 

ডেকে বলি, হে বালিকা ওঠো ফুটে ! ফোটো !

 

পরিপার্শ্বে সবাই তোমার গুণগ্রাহী

 

ঘ্রাণ-পারিজাত হানো বুকে মর্মগ্রাহী

 

রেখো মনে, জীবনখানি বড়ই ছোটো !

 

 

হাওয়ায় হাওয়ায় ছড়াও সুবাস

 

প্রকৃতিও হৃৎকমলে নেচে উঠুক,

 

ফুটুক তবে প্রেম-পারিজাত, ফুটুক

 

প্রাণে-মনে দূর হোক সব দীর্ঘশ্বাস !

 

 

প্রকৃতি-মানুষ কভু অভিন্ন তো নয়

 

যুগল-প্রেমের রঙ্গে জীবনের জয় !

 

 


 

স্বপ্নময় রাতে

 


রাতের গভীরে থাকে প্রভাতের আলো

 

বিনিদ্র শরীরে তার হাসে সূর্যমুখী

 

ছুঁয়ে থাকে,দ্যাখে কারা অনন্ত-অসুখী,

 

আলোর পিপাসা কাকে খুব চমকালো!

 

 

জ্যোৎস্না-ধারার মতন স্বচ্ছ পরীদল

 

আচম্বিতে অবাক আঁধারে এসে নামে,

 

তারাছুট-খেলা চলে রাত্রি-ধরাধামে--

 

দুঃখের জানালাগুলো করে ঝলমল

 

 

অশ্রুত অবাক খুব প্রার্থনার সুরে

 

সারারাত নৃত্যযজ্ঞে নামে অহেতুক,

 

নর্মদার ঢেউজলে ছিল যে কৌতুক--

 

দুলেছিল ইলোরা কি উজ্জয়িনীপুরে ! 

 

 

দুঃখের ভিতরে যারা বাঁচে সারারাত

 

স্বপ্নের ভিতরে তারা খোঁজে জ্যোৎস্নারাত

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান