যেখানে দাঁড়িয়েছি,অজান্তে কানে আসে ক্রিং ক্রিং কোনো ভেসে আসা শব্দ,
একজন সাইকেল আরোহী বলে ওঠে হঠাৎ,
তার সাইকেলে তিন চাকা
তবে একটাতে সে নিজেই ঘোরে,
বাকি দুটো শুধু থাকে চোখ বুজে
আর আমি?অন্ধের ছড়ি হাতে এগোই এক অলীক দিগন্তের দিকে,
যার দিকে যাবার কোনো মানচিত্র নেই
শুধু গমন, শুধুই গমন
Π বরফে আলো লিখে যাই
বরফের চাঁই ভেদ করে বৈদ্যুতিক দৃষ্টি
অন্যরকম দেখার ইঙ্গিত ছড়িয়ে দেয়
নীরব কষ্টফুল পরাগ ছড়ায়
এই দহনময় যাপনের শিল্পে প্রস্ফুটন ঘটে
প্রেম কি কেবল দেহ ছোঁয়ার নাম?
নাকি মনের গভীরতম কোণ ছুঁয়ে যাওয়া?
এইসব পাঠ নয়, অনুভবের দিগন্তেই পা রাখি
তুমি যা বলো না, সেই অনুচ্চারিত স্পর্শই
রয়ে যায় সাদা পাতায় পাতায়
জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে এতটুকু প্রেম
তার চেয়ে গভীর বিরহ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাই
এই খাঁচা হাঁড়-মাংস-রক্ত-মাটির খাদ্য হলেও
মন তার বাইরে অপচয়হীন
অমরত্বের বীজ নামে কিছু নেই
আছে শুধু ক্ষয়িষ্ণু সময়ের ঢেউ, বারবার ফিরে আসে
বরফে পা রাখার আগেই আলো লিখে যাই
আমরা আগুন ও জলের ভিতর দিয়ে হেঁটে যাই
যতক্ষণ না ফুরিয়ে যায় আমাদের নিঃশ্বাস
Π সেই সূত্রে কত অসূত্রের বাঁকমোড়
এরপরও ঘটে, অঘটন পটীয়সী
নানা কথা উপকথার ডালে পাতায় পাতায়
তীব্র বাতাসের আগে
আমরা কত বাঁকা রাস্তা পাড়ি দিই
কিছু বলার জন্য, না বলেও
এবং শোনার জন্য
উদগ্রীব
সেই সূত্রে কত অসূত্রের বাঁকমোড়
ঘরদোর থেকে নক্ষত্র অবধি
সবিস্তার
ওরা জেগে আছে
নাকি ঘুমিয়ে জাগার নাটক করে
গভীরতা ডুবে ভেসে দেখে কেউ কেউ
আমরা কত কি করি বা না করি
কত কিছু কাছে থেকেও দূরের হয়ে ওঠে
কত কিছু মনের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়
নিষিদ্ধ গন্দমে আসক্ত হই
আমরা সন্দেহের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাই
ভাসি উড়ি নিরন্তর
প্রকৃত ঘটনার আশপাশে ঘুরে বেড়ায়
রঙ বেরঙের মুখ ও মুখোশ
তার কতটা চিহ্নিত ও অচিহ্নিত লেখাজোখা নেই
Π ব্যর্থতার দায় কাঁধে তুলে হাঁটি
না ভিজে সাঁতরে বেড়ায় শরীর ও মন
সেই শরীর নৌকা,ধ্যানস্থ মন
শব্দ ও নিঃশব্দে নিজেকে পুড়িয়ে আলো দিয়ে যাই
উড়ে কর্ম ধর্মে ধোঁয়া পোড়ায় দেহ, মাটি খায়
এই শরীর,এই মন
ভবে অনুভবে কতটা আমাদের হয়ে ওঠে?
জীবন বৃত্তান্ত :
রজব বকশীর জন্ম ১ অক্টোবর ১৯৬৫, বকশীগঞ্জ, জামালপুর। পিতা হায়দার আলী ও মাতা অজিফা খাতুন। আশির দশক থেকে লেখালেখি করেন দেশ বিদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন,পোর্টাল, ই- পত্রিকা, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :
১.ধূসর এলবাম (রহমান প্রেস, ১৯৯৬)।
২.উদ্ধত আঁধার (কালিদাস,২০০৯)।
৩.যে হাতে পায়রা ওড়ে (গতিধারা,২০২৩)।
৪.সেইসব দরজা জানালা জেগে ওঠে (গতিধারা,২০২৩)।
৫.ছায়াসঙ্গী মায়াসঙ্গী(বইপত্র,২০২৪)।
৬.তৃষ্ণার ধ্বনি প্রতিধ্বনি (বইপত্র,২০২৪)।
ছড়াগ্রন্থ :
১.ডুমুর ফুলের মউ (রহমান প্রেস ,১৯৯৭)
গবেষণা গ্রন্থ :
১.জামালপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ( গতিধারা,২০০৯)।
২.জামালপুর জেলার ইতিহাস (গতিধারা,২০১২)।
সমন্বয়ক :
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ গ্রন্থমালা জামালপুর (২০২০),এশিয়াটিক সোসাইটি,ঢাকা।