শামীম আহমদ । পাঁচটি কবিতা
শামীম আহমদ । পাঁচটি কবিতা

এক ফোঁটা জল

জলের ফোঁটার কাছে
হাত জোড় করে বসে থাকি যেনো
গুরুর কাছে শিষ্যের নৈবেদ্য মিনতি
বারবার ফিরে যাই বিনম্র জিজ্ঞাসা নিয়ে
কীকরে ফোঁটা ফোঁটা জল তুমি ঝর্ণা হও
পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা কি গোপন স্বপ্ন
নাকি মেঘের কান্না জমে জমে বহুদিনের বিরহ বিষ্ফোরণ?
কীভাবে শান্ত নদীর ধমনীতে এত খরস্রোত লুকিয়ে-
রাখো তুমি
মেলে না উত্তর
শুধু শুনি অদৃশ্য এক সুর,যেনো চলার গান,
যেনো ভাঙার মাঝেই গড়ার তীব্র অঙ্গীকার
অতল বিস্তার ,লুকিয়ে রেখে এক ফোঁটা জল
নিজেকেই অতিক্রম করে নদীর সুদীর্ঘ ইতিহাস…

পিঁপড়ার সঞ্চয়

পিঁপড়ার সারিবদ্ধ লাইন দেখে মনে হলো
শরণার্থীরা নিজদেশ ছেড়ে পালাচ্ছে
তাদের স্বদেশ হয়তো বহিঃশত্রু দ্বারা আক্রান্ত ।
কিন্তু না,
পরক্ষণে দেখলাম দলনেতা সম্মুখে
কমান্ডো বাহিনীর মতো
দুর্দিনের সঞ্চয় নিয়ে ওরা নিজ গৃহেই ফিরছে।
অথচ আমরা মানুষ
সুসময়ে দলনেতাকে বধ করি,
শস্য ভাণ্ডারে আগুন দিয়ে শীত নিবারণে মশগুল . . .

মহা প্লাবনের শেষ

এ ঢল নেমে যাবে একদিন
নদীগুলো ভুলে যাবে নাম
শুধু শব্দ বয়ে যাবে
অথচ কোনো উৎস থাকবে না জানা …
জলের তাণ্ডবে ভেঙে পড়া শহরে
মানুষেরা মুখের খুঁজে
মাছের মতো শ্বাস নেবে স্মৃতির ভেতর
সময়ের কাঁটা গলে গিয়ে
জড়িয়ে ধরবে এক অনন্ত বিকেল।
বিরাণ বসুধা তখন
নিঃশব্দে গর্ভে ধারণ করবে আগুন
মাটির নিচে জন্ম নেবে অগ্নি বৃক্ষ,
যার শিকড় ছড়িয়ে পড়বে আকাশের দিকে,
আর ডালপালা খুঁজবে অন্ধকারের ভেতর আলো।
পল্লবে পল্লবে লেখা হবে ধ্বংসের ইতিহাস,
যা অপাঠ্য রয়ে যাবে চিরকাল!
কারণ ,ভাষা পুড়ে গেছে
অক্ষর উড়ে গেছে ছাই হয়ে
অজানা কোনো নক্ষত্রের দিকে
অবশেষে,
কেউ একজন দাঁড়বে
জল ও অনলের মাঝে ,নুহের কিস্তির গলুই জুড়ে
তার চোখে পড়বে নতুন পৃথিবীর ছায়া,
যেখানে ধ্বংস মানে কেবলই হবে অন্য এক জন্মের
প্রথম উচ্চারণ।

মুছে যাওয়া ডিজিটাল নোট

ডিজিটালে স্ক্রিনে সব নদী অলিক ।
যেখানে কবিতারা
পিক্সেলের মাছ হয়ে সাঁতার কাটতো,সেখানে এখন শুধু
নীরবতা আর নীল স্ক্রিনসেভারে নিঃশব্দ চোরাস্রোত
থমকে আছে ! আমি শুধু আঙুল দিয়ে খুঁজি ,মুছে যাওয়া
শব্দের ছায়া,কিন্তু তারা নাকি
ক্লাউডের আকাশে উড়ে গেছে অপরিচিত নক্ষত্র হয়ে।
আজ মন খারাপের রঙ একটু ধূসর,
একটু বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার মতো
তবুও বুকের ভেতর
একটা গোপন সার্ভার এখনো জ্বলছে অপার আশা
নিয়ে ,নতুন ফোল্ডার খুলে বসে আছি ধ্যানি বৃক্ষের
মতো ;হয়তো আবার কোনো এক ভোরে
হারিয়ে যাওয়া কথাগুলো নতুন পল্লবের মতো উঁকি দেবে ,
আর আমি পরম আহ্লাদে হাত বুলিয়ে নেবো
যেন তারা প্রথমবার প্রস্ফুটিত হচ্ছে এই ভেবে ...

বিশ্বের রাজনীতি

মানুষ মতবাদের স্রষ্টা ।
একটি মতবাদ মাইকে চিৎকার করে
স্বাধীনতা!
আরেকটি হাসে নীরবে
মানুষের স্বাধীনতার সংজ্ঞা বদলে দিয়ে ।
শব্দেরা এখানে ভাড়াটে সৈনিক !
এই রূগ্ণ সময় যখন অধিকার কেড়ে নেয়
তখন ধৈর্য্য আর প্রগতি একসাথে বড্ড বেমানান লাগে ...
যদিও আইডিওলজি শেখায় গনতন্ত্রের পাঠ
অথচ আমার চোখে গনতন্ত্র একখানা মিথ্যাচারের পাণ্ডুলিপি
যা সত্য এখানে অপাঠ্য !মিথ্যাই যেন সময়ের পরিপুষ্ট পরিসংখ্যান ।


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান