দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী প্রজন্ম প্রান্তিক সম্মাননা পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ।
‘প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেব দ্রোহী শব্দাবলি’ স্লোগানে দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী জন্মোৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে অতিথিদের হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন। সালাহ উদ্দিন মাহমুদ। সাহিত্যচর্চায় অবদান রাখার জন্য এই কথাসাহিত্যিককে প্রজন্ম প্রান্তিক সম্মাননা দেওয়া হয়।
পুরস্কার ও সম্মাননা পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বাংলাপোস্টকে সালাহ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, এ ধরনের সম্মাননা দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে দেয়। অনুপ্রেরণা জোগায়। তাই আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। একইসঙ্গে চাইবো, দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর সাহিত্যকর্ম ছড়িয়ে পড়ুক।
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ১৯৮৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর উড়ার চর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার মরহুম বাবা জেড এম এ মাজেদ মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। মা হাসনে আরা আদর্শ গৃহিণী। ছয় ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
তিনি স্নানঘাটা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল, নয়াটোলা এইউএন কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকসহ প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ড. রাজিব মণ্ডলের অধীনে এমফিল গবেষণা করছেন।
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ২০০৭ সালে দৈনিক দেশবাংলার মাধ্যমে সাংবাদিকতায় পথচলা শুরু করেন। এরপর সকালের খবর, বাংলাবাজার পত্রিকা, করতোয়া, সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ, সুবর্ণগ্রাম এবং ব্রেকিংনিউজে কাজ করেছেন। নিয়মিত ফিচার লিখেছেন কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, সমকাল, যায়যায়দিন, মানবকণ্ঠসহ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে।
নিয়মিত কলাম লিখেছেন জনতা, ডেসটিনি, যায়যায়দিন, আলোকিত বাংলাদেশ, বাংলাদেশের খবর, সময়ের আলো, আমাদের সময়, সমকাল, দেশ রূপান্তর, ডেইলি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ গার্ডিয়ান, খবর সংযোগ, বাংলাদেশ বুলেটিন প্রভৃতি পত্রিকায়।
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ বর্তমানে অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে সিনিয়র সাব এডিটর (ফিচার ইনচার্জ) পদে কর্মরত। এ ছাড়া নবধারা পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য।
ছোটগল্প লেখক হিসেবে পরিচিতি পেলেও তিনি কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, কলাম, শিশুতোষ গল্প ও সাহিত্য সমালোচনা লিখে থাকেন। এ ছাড়াও তিনি সাহিত্যের ওয়েবম্যাগ চিন্তাসূত্রের সহযোগী সম্পাদক ছিলেন এবং লিটলম্যাগ রচয়িতার সহকারী সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি তিনবার সুনীল সাহিত্য পুরস্কার, কালকিনি প্রেসক্লাব সম্মাননা, কালকিনি কলেজ বাংলা বিভাগ সম্মাননা, এসইএল লেখক সম্মাননা, লেখকবাড়ি পুরস্কার, রকমারি সংবাদ স্টার অ্যাওয়ার্ড, এসবিএসপি লেখক সম্মাননা, আবুল মনসুর আহমদ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা পুরস্কার, সাহিত্য দিগন্ত লেখক পুরস্কার, আমার বঙ্গবন্ধু লেখক সম্মাননা, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল লেখক সম্মাননা এবং সাঁকো লেখক সম্মাননা লাভ করেন। পাশাপাশি ছাত্রজীবনে আবৃত্তি এবং অভিনয়ে একাধিক পুরস্কার লাভ করেন।
তিনি টেলিভিশনে তিনটি খণ্ড নাটক এবং একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। এটিএন বাংলা নাট্যযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। একডজনেরও বেশি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন। নাট্যকার এবং নির্দেশক হিসেবেও মঞ্চ নাটকে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত জাতীয় নাট্য উৎসবে তার রচিত ও অভিনীত চারটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে।
তার গল্পের বই ‘সার্কাসসুন্দরী’, ‘নিশিসুন্দরী’, ‘সুন্দরী সমগ্র’, ‘এখানে কয়েকটি জীবন’ ও ‘বিষণ্ন সন্ধ্যা কিংবা বিভ্রম’। কবিতার বই ‘মিথিলার জন্য কাব্য’ ও ‘তুমি চাইলে’। সাক্ষাৎকার সংকলন ‘আমার আমি’ ও সচেতনতামূলক বই ‘অগ্নিকাণ্ড সতর্কতা ও নির্বাপণ কৌশল’। তার উপন্যাস ‘মমতা’ ও ‘মিয়াভাই’। প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বাংলা সাহিত্যের একাল-সেকাল’ ও ‘বাংলা সাহিত্যে শিল্পপ্রবণতা’। কিশোর জীবনকথা ‘হাজী মহম্মদ মহসীন’। ছোটদের বই ‘স্বাধীনতার গল্প’ ও ‘ছোটদের ছয় ঋতু।’
সাংবাদিকতা, সংস্কৃতিচর্চা এবং লেখালেখির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি প্রথম আলো বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কালকিনি উপশাখার যুগ্ম সম্পাদক, মাদারীপুর জেলা উদীচীর সদস্য, মাদারীপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকর্মী, কালকিনি শিল্পকলা একাডেমির সদস্য, প্রথমা রঙ্গমঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা, কালকিনি সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সদস্য, জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরামের সাহিত্য সম্পাদক, মানবকণ্ঠ সেতুবন্ধনের সদস্য, কালকিনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, মাদারীপুরের উদ্দীপণ সাহিত্য সংসদের সদস্য, উদ্ভাস আবৃত্তি সংগঠনের সদস্য ছিলেন।
তিনি ঢাকা সাব এডিটর কাউন্সিলের সদস্য, বাংলাদেশ সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য, মাদারীপুর জেলা সাংবাদিক সমিতির প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবনে তিনি বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশে কাজ করেছেন। পড়িয়েছেন কালকিনির শিশু কানন কিন্ডার গার্টেন, অক্সফোর্ড কোচিং সেন্টার, খাসেরহাট সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ, সাহেবরামপুর কবি নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে। ২০১৪ সালে তিনি ঢাকায় এসে সাংবাদিকতা পেশায় থিতু হন।
উল্লেখ্য- দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন ধারার সাহিত্যচর্চায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়া হয়। এ বছর সালাহ উদ্দিন মাহমুদ সহ দেশের ১৬ গুণীজনকে দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
