বাংলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছেন যুবকন্ঠ মিডিয়ার পরিচালক, কবি, কথাসাহিত্যিক ও সংগঠক বাপ্পি সাহা (মূল নাম : প্রবাল কান্তি সাহা)। ৫ জুলাই তাঁর জন্মদিন। এ উপলক্ষে সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা অঙ্গনের শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
১৯৮৪ সালের ৫ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা প্রবোধ চন্দ্র সাহা এবং মাতা তুলসী রানী সাহা। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে নারায়ণগঞ্জে। আমলাপাড়া আদর্শ স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং সরকারি তোলারাম কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। তিনি কবিয়াল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জাতীয় কবিতা পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য, কবি সংসদ বাংলাদেশের সহ-সভাপতি, মাটির সুর সাহিত্য সাংস্কৃতিক পরিষদের উপদেষ্টা এবং জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ‘কবিয়াল’ সাময়িকী ও kobial24.net-এর সম্পাদক, ‘লেখালেখি’ সাহিত্যপত্রের সম্পাদক এবং সাপ্তাহিক যুবকণ্ঠ-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও তিনি কাজ করছেন।
বাপ্পি সাহার সাহিত্যভুবন বহুমাত্রিক। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, রূপকথা ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনিসহ বিভিন্ন ধারায় তিনি লিখে চলেছেন। তাঁর রচনায় মানবিক বোধ, সমাজবাস্তবতা, দেশপ্রেম, লোকঐতিহ্য এবং সমকালীন জীবনের নানা অনুষঙ্গ শিল্পিতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সাহিত্যকে তিনি কেবল সৃজনের ক্ষেত্র হিসেবে নয়, সামাজিক জাগরণ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও বিবেচনা করেন।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন সময়ে একাধিক সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য সম্মাননার মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পুরস্কার, জীবনানন্দ দাশ সাহিত্য পুরস্কার, হিউম্যান রাইটস গোল্ড মেডেল এবং World Poetic Award 2026 ।
জন্মদিনে কবি বাপ্পি সাহার জন্য সাহিত্যাঙ্গনের প্রত্যাশা—তাঁর সৃজনশীলতা আরও বিকশিত হোক, নতুন নতুন রচনায় সমৃদ্ধ হোক বাংলা সাহিত্য, আর তাঁর সাংস্কৃতিক ও মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা জোগাক।
